• শনিবার, ৩১ জুলাই ২০২১, ০৭:১৮ অপরাহ্ন
  • العربية العربية বাংলা বাংলা English English ગુજરાતી ગુજરાતી हिन्दी हिन्दी اردو اردو
সংবাদ শিরোনাম
বিজ্ঞপ্তি
অনলাইন ভিত্তিক টিভি ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল Chatgatv24.com  এর নিয়মিত সম্প্রচার চলছে। চট্টগ্রাম বিভাগের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা এবং সারাদেশে সংবাদদাতা প্রয়োজন । আগ্রহীরা জীবন বৃত্তান্ত সহ আবেদন করতে পারেন । Email - chatgatv24@gmail.com অথবা  news@chatgatv24.com ।

কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর পরিচালক ও শিক্ষক শিক্ষিকাদের আর্তনাদ দেখার কেউ নেই

সংবাদ দাতা / ৪৫১ জন পড়েছেন
প্রকাশিত শনিবার, ২৩ মে, ২০২০

খোলা চিঠি

করোনার এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মধ্যভিত্ত পরিবারের মত অসহায় হয়ে আছেন স্কুল শিক্ষক শিক্ষিকা ও স্কুল প্রতিষ্ঠান পরিচালকবৃন্দ।  তেমনি এক দূরদর্শার পরিস্থিতি জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি প্রতিবেদন দিলেন।

খোলা চিঠিতে যা লেখা হয়েছে,
সারা বিশ্ব কোভিড- ১৯ তথা করোনা মহামারীতে দিবানিপাত করছে। আমাদের বাংলাদেশেও এটি ইতিমধ্যে মারাত্মক মহামারী আকার ধারন করেছে। যার ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি, বে- সরকারি, ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ যাবতীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি সাধারন ছুটির আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

যার কারনে ব্যাক্তি মালীকানাধীন কিন্ডারগার্টেন স্কুল মাদ্রাসাগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা শুধু স্কুল বন্ধ রেখেই সীমাবদ্ধ থাকিনি, তার সাথে সাথে ছাত্র শিক্ষকদের হোমকোয়ারেন্টাইন ও নিশ্চিত করেছি। গত ১৭/০৩/২০২০ হতে অধ্যবদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। সরকারি – আধা সরকারি স্কুলের কর্মকর্তা কর্মচারী বৃন্দ স্কুল বন্ধ থাকলেও তারা তাদের মাসিক বেতন নিদিষ্ট সময়ে পেয়ে যাবেন। অপরিকে কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দদের বেতন নির্ভর করে ছাত্র- ছাত্রীদের থেকে টিউশন ফি সংগ্রহের ওপর।

আবার ব্যাক্তি মালিকানাধীন কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো শতকরা ৯৫% বাসা ভাড়ায় চালিত হওয়া কারনে আয়ের ৪০% বাড়ি ভাড়া, ৪০% শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন,  বাকি ২০% গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল, পানি বিল ও অন্যান্য খরচ বহন করতে হয়। কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও মাদ্রাসার সাথে প্রায় ১৫ লক্ষ শিক্ষক কর্মকর্তা কর্মচারী জড়িত।দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকার কারনে অত্র প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালক শিক্ষক, কর্মচারীবৃন্দ অত্যান্ত কষ্টে জীবন যাপন করছে। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ স্কুল শেষ করে অনেকে বাহিরে টিউশন করতেন।

করোনার কারনে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল  টিউশনও এখন বন্ধ।  আবার অত্র প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়ায় চালিত হওয়ার কারনে  অনেক বাড়ির মালিক এ ভাড়ার উপর নির্ভরশীল। স্কুল দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার কারনে স্কুলে ভাড়াও পরিশোধ করা যাচ্ছে না।ইতোমধ্যে এই সংকট মোকাবেলা করার জন্য সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করছেন। যার পরিমান ৭২৭৫০ কোটি টাকা।এই প্রণোদনা প্যাকেজ প্রত্যেকটি সরকারি বেসরকারি  শিল্প কারখানা, কৃষিখাত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য আথির্ক প্রণোদনা অনুদান দেয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জনাই। কিন্তু পরিতাপের বিষয় ব্যাক্তি মালিকানাধীন কিন্ডারগার্টেন স্কল ও মাদ্রাসার জন্য কোন আথির্ক অনুদান রাখা হয়নি।এদিকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গার্মেন্টস, কলকারখানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কখন চালু করা হবে আমরা জনিনা। গত কয়েকদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটি দীর্ঘায়িত হতে পারে।আমাদের দেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন মহল থেকে ত্রাণ সামগ্রী ও সহায়তা পেয়ে  যাচ্ছে।

দিন মুজর, কুলি, খেটে খাওয়া মানুষগুলো বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সাহায্য পাচ্ছে।একটি বিষয় এখানে লক্ষণীয় যে সরকারের জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যাক্তি মালিকানাধীন তথা কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পড়া-লেখার মান, রেজাল্টও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনেকাংশে ভালো।এই দিকে দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকার কারনে স্কলের ভাড়া, শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষ পরিশোধ করতে পারছেনা। দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকার কারনে টিউশন ফি আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না।

যার কারনে বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষের উপর বিশাল অংকের ঋণের বোঁঝা চেপে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আথির্ক সংকটের কারনে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। যার সাথে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ধ্বংস হযে যেতে পারে। তার সাথে শিক্ষক- শিক্ষিকা বেকার হয়ে যাবে। যা করো কাছে কাম্য নয়।মানুষ গড়ার কারিঘর কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকা কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ অনেক কষ্টে দিবানিপাত করছে। তাঁরা শিক্ষক হওয়া কারনে লজ্জায় করো কাছে বলতে পারছেনা সহ্য করতে পারছেনা।

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার ১৮ কোটি জনগনের অভিভাবক। আপনি শিক্ষকের অধিকার ও সম্মানের ব্যাপারে সচেতন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীদের সমস্যা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের উপক্রম থেকে বাঁচানোর আপনার মহা কৃপা দৃষ্টি কামনা করছি।পরিশেষে বলব আমার এই প্রতিবেদনে ভাষাগত ভূল-ত্রুটি থাকতে পারে। তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

 

নিবেদক
কাজী আবদুর রহমাম
পরিচালক ও অধ্যক্ষ
লাইফ লাইন স্কুল অ্যান্ড কলেজ
পাহাড়তলি
চট্টগ্রাম
ফোন: 01911-273065
E-mail: kazirahman1984@yahoo.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!