বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ১২:০১ অপরাহ্ন বাংলা বাংলা English English
সংবাদ শিরোনাম
এই মাত্র পওয়া
Wellcome to our website...
ডাকাত স্বামীর শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পাচ্ছে না ৫ সন্তানের জননী
/ ১০৯৭ জন পড়েছেন
প্রকাশিত রবিবার, ৩ মে, ২০২০, ৯:১৩ পূর্বাহ্ন

বাঁশখালী প্রতিনিধি :

চট্টগ্রাম বাঁশখালী ৭নং সরল-জালিয়াঘাটা ৮নং ওয়ার্ড়ের, মৃত আয়ুব আলীর ছেলে, জাফর আহমদ (প্রকাশ ডাকাত জাফর) কয়েকটি মামলা আসামি, এবং মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী, জোয়া ও ইয়াবা সেবন কারি, ডাকাত জাফর। কয়েক বছর ধরে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের উপর নির্যাতন করে।

তার স্ত্রী কামরুন নাহার জানান, সুত্র: যৌতুকের টাকার কারনে, কামরুন নাহার বলেন আমার বাবা বেঁচে নেই, যৌতুকের টাকা কোথায় পাবে সে নির্যাতন করলেও ছেলেমেয়ের কথা চিন্তা করে সংসার করেছিল। তার পর হঠাৎ করে গ্রেফতার হয় জাফর। তখন (৩জন) ছেলে মেয়ের আহার জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছিল স্ত্রী কামরুন নাহার, তখন সে কার ধারে যাবে চিন্তায় ছিল। তখন সেই ছেলে মেয়ে নিয়ে, চট্টগ্রাম চলে যায়। শুরু হয় তার জিবন যোদ্ধ, সে একটি গার্মেন্টস কোম্পানিতে চাকরী শুরু করে মাসে ৮/৯ টাকার চাকরী।

বেতনের কিছু জমিয়ে ও তার বাপের বাড়ী থেকে কিছু টাকা নিয়ে থাকে জামিনে বাহির করেছিল। তারপর চট্টগ্রামে স্ত্রীর সাথে থেকে যায় জাফর, কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারো গ্রেফতার হয় ডাকাত জাফর। ৬/৭ মাস জেল কাঁটার পর আবারো জামিনে বাহির করেন তার স্ত্রী কামরুন নাহার। বাহির হওয়ার পর ছেলে মেয়ে ও স্ত্রী কামরুন নাহার কে চট্টগ্রামে রেখে কক্সবাজার থেকে আরেকটা মেয়ে বিয়ে করে জাফর তার বাড়ীতে নিয়ে আসে। তার পরেও স্ত্রী কামরুন নাহার ও বাবার বাড়ীর লোকেরা, কিছুই বলেতে পারেনি, ডাকাত জাফরের নির্যাতনের ভয়ে।

জাফর আরেকটি বিয়ে করার পর তার স্ত্রী কামরুন নাহার ও ছেলে মেয়েদের খুঁজ খবর রাখেনি,এবং ফোন পযর্ন্ত করতো না জাফর। স্ত্রী কামরুন নাহার জানান, গার্মেন্টস এ চাকরী করে ছেলে মেয়েদের মানুষ করার চেষ্টা করেছি, তার পরও বেঁচে থাকার আশায় জীবনে যোদ্ধা করে গিয়েছিলাম। তখন এদিকে জাফর নতুন সংসার নিয়ে ব্যাস্ত, নতুন বিয়ে করার পর এক বছর ২-৩ মাসের মাথায় এক বাড়িতে ডাকাতি করতে গেলে থাকে ঐ বাড়ীর মালিক থাকে এলোপাথাড়ি কোপানোর পর রক্তাক্ত অর্বস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

তারপর ডাকাত জাফর এর নতুন বৌ ১মাস ১০/১২ দিনের মাথায়, জাফর খালাতো ভাইকে বিয়ে করে পালিয়ে যায়। এদিকে জাফর জেল খানায় দিন গুনতে গুনতে ৫/৬ মাস পার করলো। তারপর আগের স্ত্রী কামরুন নাহার ও তার বাবার বাড়ীর লোকদের জেল থেকে খবর পাঠায় ডাকাত জাফর, সে সবার থেকে ক্ষমা চেয়ে বললো, যা কিছু করেছি বা হয়েছে, তার জন্য জাফর নিজেই দায়, সে আর কোনদিন খারাপ কাজ করবে না, স্ত্রী কামরুন নাহারকে ও নির্যাতন করবেনা।

ডাকাত জাফর তার স্ত্রী কামরুন নাহারকে বললো, শেষ বারের মত আমাকে সুযোগ দাও, সবার থেকে ক্ষমা চেয়ে ভাল হবার জন্য, আমি বুঝতে পেরেছি তোমরা ছাড়া পৃথিবীতে আমার আপন বলতে কেউ নাই। স্ত্রী কামরুন নাহার জানান, আমি আমার বাবার বাড়ীর কাউকে না জানিয়ে গার্মেন্টসে চাকুরী করে টাকা জমিয়ে আবারো জামিনের জন্য এডভোকেট ওয়াহাব মিয়ার কাছে যায়, তারপর ৭/৮ মাস পর জাফর এর মামাকে নিয়ে জামিনে বাহির করেন তার স্ত্রী কামরুন নাহার।

বাহির হয়ে ২/৩ মাস পর সবাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসে জাফর। ২ থেকে আড়াই বছর খুব ভালো করে চলেছিল তারপর আছতে আছতে শুরু হতে লাগলো সেই পুরানো কাহিনী। বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন ও মারধর করতো, তার পরও কাউকে বুঝাতাম না কারণ আমি নিজের পায়ে নিজেই কুঁড়াল মেরেছি। অনেক সময় নির্যাতন সইতে না পেরে বাপের বাড়ীতে চলে যেতাম, তারপর লোক পাঠায় তো, তখন ছেলে মেয়ের কথা চিন্তা করে আবার চলে যেতাম স্বামীর বাড়ীতে।

কারণ, আমার বাবা তো বেঁছে নেই কিভাবে চলবো। এত নির্যাতনের পরও ৫-৬ বছর সংসার করেছি। ২০২০ সাল ডুকার পর থেকেই দিনরাত ইয়াবা, মদ ও জুয়া নিয়ে পড়ে থাকে। স্ত্রী কামরুন নাহার বলেন, আমি কিছু বলি না কারণ, কিছু বললে শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। যেদিন ইয়াবা ও জুয়া খেলা টাকা থাকে না সেই দিনে শুরু হয় আমার উপর শারীরিক নির্যাতন। গত জানুয়ারি মাসে আমার উপর শুরু নির্যাতন তখন রাত ২.৩০ মিনিট মত হবে, তখন ছেলে মেয়েদের রেখে দিয়ে, আমাকে মারধর করে ঘর থেকে বাহির করে দেয়।

এলাকার সবাই থাকিয়ে আছে, কেউ কিছু বলার সাহস নেই ডাকাত জাফর এর সামনে। তারপর আমি আমার খালার বাড়ীতে চলে যায়,তখন আমার বড় মেয়ের উপর নির্যাতন শুরু করে, রাত হলে অশ্লীল ও লগ্ন ভাষায় কথা বলতো মেয়ে আমাকে ফোন দিয়ে কেঁদে কেঁদে বলতো (মা তুমি এসে আমাকে নিয়ে যাও, না হয় আমি আত্মহত্যা করে মরে যাব) তখন আমি আমার ভাইদের বিষয়টি জানাই, ভাইয়েরা তখন আমাদের চেয়ারম্যান জনাব রশিদ আহমদকে বললো, আংকেল জাফর এর নির্যাতনের শিকার আমাদের বোন, তারপর ও কোনদিন বিচারের জন্য আসনি, আজ এসেছি তার বড় মেয়ের জন্য।

জাফর রাতে মদ খেয়ে অশ্লীল ও লগ্ন ভাষায় কথা বলে। তার কি বিচার করার মত কেউ নেই, তারপর চেয়ারম্যান ফোন দিল পরিষদে যাওয়ার জন্য যায়নি জাফর। পরের দিন গ্রাম পুলিশ দিয়ে খবর দিলেও যায়নি। কয়েক দিন পর পাঠাইছে জাফরের বাড়ীর পাশে মোক্তার নামের এক অটোরিকশার ড্রাইভারকে পাঠাছে, আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য, তখন আমি ছেলে মেয়ের কথা চিন্তা করে আবারো গিয়েছিলাম। তখন মোক্তার বললো, জাফর আমাকে পাঠিয়েছে জাফর আল্লাহর কোরআন ও মাওলানা নাছির উদ্দিন শাহ মাজার ধরে শপথ করতছি আমি কামরুন নাহারকে আর কোনোদিন নির্যাতন করবোনা।

মোক্তার বলল যখন আমি এসেছি ঐখানে তোকে নির্যাতন করার দুরের কথা তুই বলবেনা ওঠা আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। আমি আবারো ভাইদের কথা না মেনে, ছেলে মেয়ে ও সংসারের টানে নির্যাতিত কামরুন নাহার চলে যায় জাফরের কাছে। স্ত্রী কামরুন নাহার জানান। ১৫ দিন যেতে না যেতেই আবারো নির্যাতন। জাফর আমাকে মেরে হাত ভেঙে দে, তখন ফুফুর জামাইকে ভাঙা হাতটি দেখায়।

তার পরেও জাফরের বিচার করার সাহস নেই, তাকে বলার ও কিছু নেই। ভাঙা হাত নিয়ে কোথাও যেতে পারলাম না কারণ সব পথ বন্ধ আমার। ১০-১৫ দিনের মাথায় আবারো নির্যাতন শুরু আমার উপর, তখন ভাঙা হাতটি ভালো হয়নি, জাফর তখন বললো আমাকে টুকরা টুকরো করে কুত্তা কে হাওয়বে,কেউ আমর লাশও পাবে না। তখন আমি মোক্তার ও এলাকার লোকদের বলেছি। তারা বলল আমাদের কিছু করার নেই।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ
লাইক পেইজ